এইচএসসি পরীক্ষায় ভয়াবহ ফল বিপর্যয়ের পর অনেক শিক্ষার্থীর মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তায়। পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী সংখ্যা দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে অভিভাবকদের মাঝেও।
এবার এসএসসি ও এইচএসসির সম্মিলিত জিপিএ কমিয়ে ৮.৫ করলেও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নতুন নীতিমালার শর্তে অনেকেই বাদ পড়ছেন। কারণ, পৃথকভাবে প্রতিটি পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ-৪ না থাকলে আবেদনই করা যাবে না।
অভিভাবকরা এটিকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলে মনে করছেন। তাদের দাবি, ফলাফল নিম্নমুখী হওয়ায় আলাদা জিপিএ শর্ত বাতিল করতে হবে। ভিকারুননিসা নূন কলেজের শিক্ষার্থী তাজমিরা তানজু এইচএসসিতে জিপিএ-৩.৮০ পাওয়ায় ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারছেন না। তার মা বলেন, “এসএসসিতে মেয়েটা গোল্ডেন পেয়েছিল, এখন অন্তত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ চাচ্ছি।”
একই অভিমত সাংবাদিক আরিফুর রহমান বাবুরও। তার মেয়ে ৮.৫ পয়েন্টের বেশি পেলেও এইচএসসিতে সামান্য কম জিপিএ থাকায় সে সুযোগ হারিয়েছে। তিনি বলেন, “মেধাবী শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশই নিতে পারছে না—এটা অন্যায়।”
তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ নেই। বিএমডিসির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, “আমরা ইতিমধ্যে জিপিএ কমিয়ে উদারতা দেখিয়েছি। কিন্তু মেডিকেল শিক্ষার মান রক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ-৪ বজায় রাখা জরুরি।”
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও একই কথা জানিয়েছেন—সিদ্ধান্তটি সব দিক বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ডিসেম্বর। এবারের পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএর ওপর আরও ১০০ নম্বর যোগ হবে।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ ও জীববিজ্ঞানে ন্যূনতম জিপিএ-৩.৫০ পাওয়া প্রার্থীরাই অংশ নিতে পারবেন। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এইচএসসি পাসকারীরা আবেদন করতে পারলেও ২০২২ সালের আগে এসএসসি দেওয়া কেউ অংশ নিতে পারবেন না।
/এমএস